উঠোনের কোণার দিকে বিশাল যে গাছটা সেটা
একটা নিমগাছ ।নিমপাতা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো । চারপাশের গাছের এত সবুজ রঙের পাতা । ঘাস বনে ছোট ছোট রঙিন ফুল আবার মনটাকে অন্যরকম করে দেয় ।
কিছুক্ষণ আগে শোনা যাচ্ছিলো ঘুঘুর ডাক । একটু আগে একটা রঙিন পাখিও চোখে পড়েছে । পাখির
পালকে অনেক রং । নাম না জানা পাখিটিার একটা নাম ঠিক করে ফেলি অমি । পাখির নাম
রঙিলা।
ঠিক সে সময় চোখে
পড়ল নীল রঙের হাফপ্যান্ট আর নীল রঙের হাফশার্ট পরা একটা লোক । দুচাকা’অলা একটা
কাঠের বাক্স ঠেলে সামনে নিয়ে আসছে । লোকটা হেঁড়ে গলায় ডাক দিচ্ছে –আইসক্রিম।
এই জঙ্গলের
মধ্যে লোকটা আইসক্রিম কার কাছে বিক্রি করুনবে?প্রথমেই প্রশ্নটা অমির মাথায় এলেও
পরে মনে হলো লোকটা কোথায়,কার কাছে,আইসক্রিম বিক্রি করুনবে তার জানার দরকার কী?বরং
লোকটাকে ডেকে একটা আইসক্রিম কেনা যায়।জানালা দিয়ে অমি ডাক দেয়-আইসক্রিম’অলাকে ।
দরজা খুলে বাইরে
দাঁড়াতেই আইসক্রিম’অলা বলে,কী আইসক্রিম খাবেন ?
বাপরে !এই
জঙ্গলে আইসক্রিম পাওয়া যাচ্ছে এটাতো বেশি । তারপর আবার কী আইসক্রিম পাওয়া যাবে তার
পছন্দেরও সুযোগ রয়েছে । ভীষণ অবাক হয় অমি । কিন্তু মুখে বলে ,
(৩৬)
কী ধরনের
আইসক্রিম রয়েছে?
ভ্যানিলা,চকলেট,স্ট্রবেরি-আপনার
কোনটা লাগবে ?
ভ্যানিলাই দিন ।
আপনি কি নতুন
এসেছেন ?
হাঁ ।
কালাম সাহেব
কোথায় ?
অফিসে । আপনি
কালাম সাহেবকে চিনেন ?
তিনি আপনার কে
হন?
মামা।
আপনি বেড়াতে
এসেছেন ?
ঠিক বেড়াতে নয় ।
তবে ময়মনসিং
যাচ্ছিলাম ।গাড়ি নষ্ট হয়ে যাওয়ায়-
ওবুঝেছি !গাড়ি
নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কালাম সাহেবের এখানে এসেছেন ।
আজই কি চলে
যাবেন ?
আজ নয় কাল ফিরব
। অমি বলল,জায়গা্টা খুব সুন্দর ।
আগে আরও সুন্দর
ছিলেন ।
সেটা কী রকম?
এই বাড়িটা জমিদার
রায় বল্লভ রায়ের ।
রায় বল্লভ রায় ।
হ্যাঁ । খুব কম জমিদারই
আছে যাদের নামের আগে পরে দুবার রায় লেখা হয় ।
সেই জমিদার
এখন কোথায় ?
এই বাড়ির ভেতরই
আছে ।
মানে ?
বসার ঘরে । জমিদার
সাহেবের একটা বিশাল ছবি টাঙনো আছে ।
ও। আমার পুরো
বাড়ি দেখা হয়নি । সময় পেলে দেখে নিবেন । আমার আইসক্রিম দিলেন না ?
মুখে যদিও লোকটা
বলল ও !তাইতো ।
কিন্তু তারপরই
আবার অমিকে বলল,একসময় এই বাড়িটার অনেক জৌলুস ছিল ।
সেটা অবশ্য আমি
কাল রাতেই বুঝেছি ।
কেমন করে ?
মামা বললেন,
বাড়িটা অনেক বড় । এত রাতে দেখার দরকার নেই ।
তাই বুঝি খেয়ে
দেয়ে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়েছেন ?
হ্যাঁ ।
বাড়ির ভেতর একটা
ফোন রয়েছে । অবশ্য ফোনটা এখন নষ্ট । নষ্ট হবার কথা । এই বাড়ির অনেক কিছুই এখন
নষ্ট ।
(৩৭)
কী রকম ?
পুরো বাড়ির
প্রত্যেক ঘরে বড় দেয়াল ঘড়ি ছিল । সেগুলো সবই নষ্ট । বসার ঘরে টানা পাখা ছিল । সেটাই এখন কেউ
চালায় না ।
টানা পাখা নষ্ট
হয় কখনো?
নষ্ট হয় না ।
কিন্তু দড়িগুলো সব পুরনো হয়ে ছিঁড়ে গেছে ।
বাড়িটার কেউ
কোনো যত্ন নেয় না কেন?
সে প্রশ্ন তো
আমারও ।
এই ধরনের বাড়ির
সরকারের উচিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা । আপনার মতো সবাই যদি ব্যাপারটা বুঝতে
পারত….যাই হোক গলাটা একদম শুকিয়ে গেছে । একগ্লাস পানি খাওয়াবেন ?
ভারি মজার বিষয়
তো ?কোনো আইসক্রিম’অলা পানি খেতে চায়?
এমন কথা কখনো
শোনেনি অমি।
অবশ্য ময়রা
নিজের মিষ্টি খায় না । সুতরাং আইসক্রিম;অলা নিজের আইসক্রিম না-ও খেতে পারে ।
আপনি দাঁড়ান ।
অমি পানি এনে দিচ্ছি ।
বাড়িতে আর কেউ
নেই?
নাহ। আবদুল চাচা
ছিলেন । তিনিও বাজারে গিয়েছেন ।
দুঃখিত । আমার
জন্যে আপনাকে কষ্ট করতে হচ্ছে ।
না,না । পানি
খেতে চেয়েছেন তো কষ্টের কী আছে?
অমি ঘরের ভেতরে
চলে যায় । ওর ঘরে জগের মধ্যে পানি রাখা । জগ থেকে গ্লাসে পানি রাখতে গিয়ে অবাক অমি
। কী আশ্চার্য ।জগ একদম খালি । অথচ ওর স্পষ্ট মনে আছে –আবদুল চাচা জগ ভরে পানি রেখে বলে গিয়েছিল,
এই জগে পানি রইল
। বিকেলে আবার পানি ফোটাব ।
অমি বলেছিল,আর
দরকার হবে না । এক জগ পানিতে আমার কাল সকাল পর্যন্ত চলবে ।
আবদুল চাচার
কথার বোঝা যাচ্ছে ঘরে আর খাবার পানি নেই ।বাথরুমের কলের দিকে চোখ পড়ে অমির ।
কিন্তু কলের
প্যাঁ খুলছে না ।
দুই
এত বড় বাড়ি ।
কোথায় খুঁজবে পানি । অমি খালি গ্লাসটা নিয়ে আবার বাইরে এসে দাঁড়ায় ।
কী পানি পেলেন ?
মাথা নিচু করে
থাকে অমি ।
দেখলেন তো এত বড়
বাড়ি কিন্তু এক ফোঁটা পানি পেলেন না । কী দুর্ভাগ্য । সত্যি ব্যাপারটা বড়
দুর্ভাগ্যের ।
এই দুর্ভাগ্য
এড়াতে পারেনি রাজা রায় বল্লম রায়ও ।
রাজার আবার
দুর্ভাগ্য হয় কী করে ?
সেই তো কথা । যে
রাজার নামের ডাকে সব প্রজারা এক হয়ে যেত সেই রাজার ভাগ্যের এমন পরিণতি হবে তা কেউ
ভাবেনি ।
কী হয়েছিল রাজার
?
একাত্তরের কথা
নিশ্চয়ই আপনি জানেন । আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ঘটনাটা ঘটেছিল ।
কী ঘটনা?
(৩৮)
ঠিক সে সময় হঠাৎ
করে গাড়ির হর্নের শব্দ শোনা যায় । ড্রাইভার বোধহয় গাড়ি নিয়ে ফিরে আসছে । অমি
আইসক্রিম’অলাকে বলল ,
আমাদের গাড়ি
ফিরে আসছে । গাড়িতে পানির বোতল আছে । আপনাকে পানি দেব ।
ঠিক আছে । তবে
বোধহয় লাগবে না ।
অদ্ভুতভাবে
লোকটি দুই চাকা’অলা আইসক্রিমের কাঠের বাক্সটা নিয়ে কিছু বলার আগেই নিমিষের মধ্যে
অদৃশ্য হয়ে যায় ।
ড্রাইভার এসে
চাবি দিয়ে চলা যায় । আর কী আশ্চার্য-ভোজবাজির মতো আবার আইসক্রিম’অলা আইসক্রিমের
বাক্স নিয়ে উপস্থিত হয় অমির সামনে । হঠাৎ করেই অমির মনে হলো,একটু আগে যে
আইসক্রিম’অলাকে অমি দেখেছিল সেই একই আইসক্রিম’অলা । কিন্তু তার বয়স বেড়ে গেছে অনেক
।আগের আইসক্রিম’অলার মোচ ছিল কিনা সেটাও মনে করতে পারছে না অমি ।
আপনি আবার ফিরে
এলেন যে ।
আপনার
আইসক্রিমটা দিতে ভুলে গেছি ।
আমিও পানি দিতে
ভুলে গেছিলাম ।
এই কথা বলে অমি
গাড়ির দিকে এগোয় ।
আইসক্রিম’অলা
বলে এখন পানি আর খেতে ইচ্ছা করুনছে না । বরং আপনি কী আইসক্রিম যেন খাবেন বলেছিলেন।
যখন অমি তার
ড্রাইভারের সঙ্গে কথা বলছিল তখন ঐটুকু সময়ের মধ্যে লোকটা কোথায় গিয়েছিল ? অমির
কথাটা মনে হওয়া কারণ আইসক্রিম’অলা লোকটি হঠাৎ যেন খুব পরিশ্রান্ত হয়ে গেছে । কথা
বলতে গিয়ে হাঁপাচ্ছে।
আপনি আমাকে রাজা
রায় ভল্লম রায়ের দুর্ভাগ্যের কথা বলতে যাচ্ছিলেন ।
কার গল্প !
অমি আবার বলে,
রাজা রায় বল্লভ রায় ।
আমি শুনতে
পাচ্ছি না । একটু জোরে বলবেন ?
চিৎকার করে অমি
বলে । রাজা রায় বল্লভ রায় ।
এই নাম আপনি
কোত্থেকে জানলেন অমি সাহেব ?
অমি হঠাৎ খেয়াল
করে ওর পুরো গা ধরে ঝাঁকাচ্ছে বাড়ির কেয়ারটেকার আবদুল চাচা । আর বলছে ,এই নাম আপনি
কী করে জানলেন ?
ঐ তো উনি বলেছেন
।
কে বলেছেন ?
ঐ আইসক্রিম’অলা
।
এই জঙ্গলে
আইসক্রিম;অলা আসবে কোথা থেকে ?কী বলেছেন অমি সাহেব ।
এই তো এখনই আমার
সাথে কথা বলছিল। কোথায় গেল? কিছুক্ষণ আগে ড্রাইভার আসার সময় যেমন ভোজবাজির মতো
অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল আইসক্রিম’অলা আবদুল চাচা আসার সময়ও ঠিক সেরকম কান্ড
ঘটেছে।চোখের সামনে কেউ নেই ।
গেল কোথায়
লোকটা? চাচা এদিকে আসেন,খুঁজে দেখি ।
খোঁজার দরকার
নাই ।
(৩৯)
কেন?
সত্যি কেউ আসেনি
।
বিশ্বাস করেন
আবদুল চাচা,আমি অনেকক্ষণ দরে লোকটার সাথে কথা বলেছি । এমনকি তার জন্যে পানিও আনতে
গেছি ।
বলতে বলতে অমি
আবদুল চাচাকে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে ।
লোকটিকে তুমি
পানি দিয়েছিলে ?
কেমন করে
দেব?তুমি জগে পানি রেখে যাওনি ?
আমি নিজের হাতে
পানি রেখে গেছি । এইতো জগ-ভরা পানি ।
আবদুল চাচা
সামনে গিয়ে জগটা দেখায় । অমি অবাক হয়ে দেখে,তাইতো ! জগ-ভরা পানি । একটু আগে অমি
তাহলে কী দেখেছে?
অমি কলেও পানি
পাইনি ।
কেন?
কলের প্যাঁচ
খুলছিলো না ।
এই বাড়ির সবগুলো
কলের প্যাঁচ উল্টোদিকে । সেটা আপনি বুঝতে পারেননি । উল্টোদিকে কেন ?
রাজা রায় বল্লভ
রায় আমেরিকায় গিয়েছিলেন । আমেরিকায় কল উল্টোদিক ঘোরালে পানি আসে ।
লাইটের সুইচ
উল্টোদিকে টিপে বাতি জ্বলে । এ বাড়ির সবকিছু সেই আমেরিকার নিয়মে করে গেছেন রাজা
মশাই।
সেই রাজা মশাই
কোথায় ?
সেটা কেউ জানে
না । জানে না মানে ?
একাত্তর সালে
পাকিস্তানি সৈন্যরা এই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় এই বাড়িতেও ঢুকেছিল । শোনা যায় ,সেই সময়
স্হানীয় একজন মাতব্বর মাহতাবউদ্দিন রাজাকে খুন করে এই বাড়ির দখল নিয়েছিল ।
রাজাকে খুন করে?
হ্যাঁ । পঁচিশ
মার্চের পরে রাজার পুরো পরিবার বিদেশে চলে গিয়েছিল । কিন্তু রাজা বলতেন,তিনি এই
।এলাকার রাজা । প্রজাদের ছেড়ে কোথাও যাবেন না । তবে তার দুর্ভাগ্য পাকিস্তানি
সৈন্যদের আসার খবর পেয়ে তার দেহরক্ষী ও প্রজারা সবাই পালিয়ে গিয়েছিল ।
মাহাতাবউদ্দিন
আহমদ এখন কোথায়?পালিয়ে গেছে । কেউ কেউ বলে ,মাঝে মাঝে এই বাড়ি দখল নেয়ার চেষ্টা সে
নানাভাবে করে । কিন্তু আপনার মামার জন্য সেটা সম্ভব হয়নি । বরং এই এলাকার অনেকে এই
ঘটনা জানতে পেরে এখনও মাঝে মাঝে মাহতাবউদ্দিন আহমেদের বিচার দাবি করে ।
কিন্তু রাজা রায়
বল্লভ রায় যে মারা গেছেন তার কোনো প্রমাণ আছে?
না। সেটাই্
সবচেয়ে বড় রহস্য । তবে লোকে বলে এই এলাকায় মাঝে মাঝে রাজা রায় বল্লভ রায়ের মতো একই
চেহারার মানুষ দেখা যায় ।
আমিও কি আজ
সেরকম কাউকে দেখেছি?
জানি না ।
কিন্তু এর আগেও শুনেছি এই বাড়ির দরজা পর্যন্ত রাজার চেহারার মতো অনেককে দেখা গেছে
।
(৪০)
রাজা এই বাড়ির
ভেতরে এসেছেন এমন কাউকে শোনা গেছে? না । তবে তার একটা বড় কারণ ঠিক বাড়ির সামনে যে
নিমগাছটা রয়েছে ।
নিমগাছে তো ভূত
থাকে শুনেছি ।
লোকে সেটা বলে ।
কিন্তু আসলে অনেক গুণ রয়েছে । অমি আর কথা আগায় না । নিমগাছের ভূত-এসব আলোচনা তার ভালো লাগছে না । আবদুল চাচা এই সময় বলে ,এই বাড়ির কাচারিঘরে রাজার
একটা ছবি রয়েছে দেখবেন ?
হ্যাঁ-অবশ্যই ।
কাচারিঘরের দিকে
এগোয় অমি । দেয়ালে একটা বিরাট তৈলচিত্র । একটু আগে যে আইসক্রিম’অলারে সঙ্গে অমি
কথা বলেছিল হুবহু সেই চেহারা । শুধু ছবির লোকটার পরনে রাজকীয় পোশাক ।
এই হলো রাজা রায়
বল্লভ রায়ের ছবি । আর রাজার প্রিয় খাবার ছিল আইসক্রিম । বলা হয়, তিনবেলাই খাবারের
সঙ্গে রাজা আইসক্রিম খেতে পছন্দ করতেন ।
তিন
অমি নটরডেম
কলেজে ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে । ভূতের সঙ্গে তার দেখা হয়েছে এটা কোনোমতেই মানতে রাজি নয়
সে । কিন্তু একজন আইসক্রিম’অলার সাথে তার কথা হয়েছে সেই ব্যাপারেও কোনো ভূল নেই ।
আবদুল চাচা নিমগাছের কথা বলে আসলে ভূতেরই ইঙ্গিত দিয়েছে সেটা বুঝতে পারছে অমি
।সূর্য প্রায় ডুবু ডুবু । কাল সকালে এই বাড়ি ছেড়ে অমি চলে যাবে । কোনোদিন আর এই
বাড়িতে ফিরে আসবে কিনা তা সে জানে না ।
কী? আপনার
আইসক্রিমটা নেবেন না?
চমকে সামনের
দিকে তাকায় অমি ।
সেই
আইসক্রিম’অলা । সেই কাঠের বাক্স ।
আপনি আইসক্রিম
দেবেন কেমন করে ।
কেন এই বাক্স
থেকে ।
বাক্সে কী আছে
জানি না । কিন্তু আপনি যে আইসক্রিম’অলা নন সেটা আমি জানি ।
তোমাকে আবদুল সব
বলে দিয়েছে ?
হ্যাঁ । কিন্তু
আপনি কেন এভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ? কী চান ?
আমি যেটি চাই তা
তুমি দিতে পারবে?
কেন পারব না?
স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়ে ইচ্ছে করলে সবই পারি ।
তাহলে যে লোকটি
আমাকে মেরেছে,আমার বাড়ি ধ্বংস করেছে তার বিচার করতে হবে ।
মুক্তিযুদ্ধের
বিরোধিতা করেছে তাদের বিচার করতে হবে ।
(৪১)
অমি ভাই তুমি
কোথায় ,দ্যাখো কী সাংঘাতিক বিষয় ঘটেছে । পেছন থেকে আবদুল চাচার চিৎকার এবং একই সাথে
চোখের সামনে থেকে আইসক্রিম’অলা তথা রাজা রায় বল্লভ রায়ের ভোজভাজির মতো অদৃশ্য হয়ে
যাওয়া ।
কী হয়েছে আবদুল
চাচা,এমন চেচাঁচ্ছেন কেন?
কাচারিঘরে
এসো,দ্যাখো কী সাংঘাতিক কান্ড ঘটেছে।
আবদুল চাচা হাত
ধরে প্রায় দৌড়ে নিয়ে যায় কাচারিঘরের দিকে । আগে খেয়াল করেনি অমি । রাজার যে ছবিটা
রয়েছে সেই ছবিটায় রাজার একটা হাত উপরে উঠে রয়েছে ।
আর সেই হাতে ধরা
রয়েছে একটা আইসক্রিম ।
এই আইসক্রিম
থেকেই পানির মতো চুঁয়ে চুঁয়ে পড়ছে কোনো একটা তরল পদার্থ । আর যেখানেই তরল পদার্থ
পড়ছে সেখান থেকেই ছবির অংশ অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে । ইতিমধ্যেই ছবির প্রায় অর্ধেক অংশ
সাদা হয়ে গেছে ।
আবদুল চাচা চোখ
বড় বড় করে সেদিকে তাকিয়ে আছেন । তবে অমি বোধহয় জানে এই ছবিটা যেমন অদৃশ্য হয়ে
যাচ্ছে তেমনি রাজা রায় বল্লভ রায় এই এলাকার মানুষের চোখের সামনে আর আসবে না । কারণ
তিনি তার শেষ ইচ্ছার কথা অমিকে জানিয়ে গেছেন ।



0 Comments
ThankYou!